তুষার প্রসূন-এর কবিতা

 

 

 

যে লেখে দৃশ্যের বাইরে

মনে মনে যে বলে সে-ও লেখে দৃশ্যের বাইরে, সে এক লেখিকা
আমিও লিখি দৃশ্য, বর্ণ, ছন্দ, মন্দ সবই মিলেমিশে প্রেমিকা
যে আমাকে লেখায় সে থাকে গগনপাড়ে, পথে নামিয়ে ধূসর
সুদূরে উধাও। কাগজ ফুরোলে নিজেই কাগজ হয়ে সমর্পিত,
ডাক নাম অববাহিকা।

জোছনার প্রাচূর্য ভাবিয়েছিল একদিন, আজ অববাহিকা আমাকে
দিয়ে লেখায়, ওর বুকে যেহেতু আমাকেই দাগ কাটতে হয় তাই
আজও লিখি কাঁশফুল, পাখি, অরণ্য আর যা কিছু ভেসে যায়
প্রতিবেশী নদীজলে। চেতনা ভাসিয়ে সেখানেও লিখি আর
লিখতে লিখতে তরণী বানাই।

আকাশের নেশা যেন মেঘ, বৃষ্টি, রোদ আর গোধুলী লিখে রাখা।
মানবিক বোঝাপড়া, তাই যুদ্ধ-বিগ্রহ পাশে রেখে ফেসবুকে অবহেলা
শিরোনামে কবিতা লিখি, পান্ডুলিপি সহ লেখিকার বাড়িতে চলে যাই,
যেখানে বসেছে বৈতরণীর হাট। যেখানে থাকে অববাহিকা, যার গায়ে
আজ জোছনামলাট।

বোধিবৃক্ষের পঞ্চতত্ত্ব

বিদ্যুৎ হঠাৎ চমকিয়ে দিয়ে দেখিয়ে দেয়
জীবনবৃক্ষের শেঁকড় রয়েছে আকাশে আকাশে,
পৃথিবীর কার্ণিশে ঝুলছে অদৃশ্য কান্ড মেরুদন্ডের আদলে,
শাঁখা নির্ভর পাতা, ফুল ও ফল দিগন্ত অবধি ছড়িয়ে আছে জ্যামিতিক কৌশলে
মাটির পরে।

একই মাটির পরে অস্তিত্ব বিনির্মানের মোহনীয় রূপ নিয়ে
যে বৃক্ষের শেঁকড় ছড়িয়ে আছে, তাকেও যদি বৃক্ষ বল সত্য হবে।
এ শেঁকড়ে যেন অনাদিকালের পূর্বপুরুষেরা বৃক্ষ হয়েই জন্ম নিয়ে সবাইকে
গর্বিত করে চলেছে…

আমাকে গর্বিত করেছে বোধীবৃক্ষ, যেখানে মূল থেকে ফলের পঞ্চতত্ত্ব
এক সুতোয় গাঁথা!

 

জোড়াচোখ পড়ে আছে

জোড়াচোখ পড়ে আছে ধূলোর পরে পথের খোঁজে…

প্রেগনেন্ট হাইওয়ে, ঝাঁ ঝাঁ রোদ্দুর, চায়ের ঘাম
মিলেমিশে সুপার টেনশান-
থমথম করছে পায়ের কাছেই।

দুঃখ বিলাসীরা চলতে চলতে আলপথে পড়ে আছে,
সুখপিয়াসীরা পাঠ করছে সৌরদেশের জার্নাল…

যৌথচোখে নামে বিভ্রম, পথের খোঁজে বেসামাল।

পেয়েছি জলাশয়, জলের নাম ভৈরব, গাইছি ভৈরবী
নিশানা না পেয়ে জলপথিকের হয়েছে ‘নৌকাডুবি’।

জোড়াপায়ের যোগাযোগ ঘটেছে তীর্থযাত্রায়
প্রশ্ন হল ; যাত্রী হয়ে কতকাল থাকা যায়?

ভ্রুদ্বয়ের মাঝে ক্রমাগত প্রশ্ন গ্রথিত হলে
মহাজনকে জানান দেয়া প্রতিদিন-
আমরা পথভ্রুষ্ট,
চৌরঙ্গীর ভ্রমে বোহেমিয়ান…

ধূলো আরও ধূ ধূ হয়ে জোড়াচোখে নিঃখাঁদ আঁধার ;
সেইপথে জ্ঞানলভি, উন্মোচিত হয় পথের শরীর…

নাব্যতা ও বৈধতা বিষয়ক

নদীর নাব্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে বৈধতা নিয়ে নয়
এরাতো সব সাগরের ছেলেমেয়ে।

কাছে থাকার দিনগুলোতে পর্দা ছিল দরজা-জানালার মুখের পরে,
মুখ ছিল মুখোশহীন, তুমি ছিলে সন্দেহে।

বন্ধন ছিল না বলে তুমি হও আমার দিকে তাক করা ব্যাধ।
বাসনাগুলোকে নৈমিশারণ্যের পথে দধিচী হতে হয়।

আজ ধ্যানের আদলে বাসনাকে স্থীর রেখে
মুখের উপরে গোপনে মুখোশ তুলে দিয়েছি,
চেয়ে দেখ
এই চেনা কি উধাও দেশের কেউ নয়?

যাবনা বলে দিয়েছি

যাবনা বলে দিয়েছি।

চলমান মূর্তি হয়ে আছি, পণ করেছি খোদ তুমি এসে নিয়ে না গেলে
দিনান্তে হারিয়ে যাব দিগন্তে, চন্দ্রচ্যূত আলো চুরি করে তোমার উঠোনে
আর ছড়াব না।

ভালবাসার চিরায়ত অভিনয়ে তুমি জয় করতে থাক সব। অভিমানে
জন্ম নেয়া অশ্রু দিয়ে, চোখের পাথর ধুয়ে দুর থেকে তোমায় ডাকব
আর নিয়ত ডাক পাঠাব।

তবু যাব না।

সমূহ পর্দা সরিয়ে রমণী যেভাবে জননী হয় তেমনি তোমার শরীর
থেকে জোছনা-পূর্ণিমা, চন্দ্র-সূর্য আরও যা যা- একদিন সরাবো,
দেখব তোমায় অনন্তকাল দেখব।

কিন্তু যাব না।

অবিনাশী দিন-রাত্রি, জোয়ার-ভাটা আর যারা আমার কাছে আসে
তারাও জেনে গেছে, তোমাকে আমার চেয়ে বেশি কে ভালবাসে!

মৌন শুন্যতায় বসে

এতকাল এই মৌন শুন্যতায় বসে সূর্য ও গোধূলিপাখিদের
আসা যাওয়া প্রত্যক্ষ করতে করতে দেখি নিরক্ষরেখায় কে
যেন একটি নির্মম ক্ষত এঁকে গ্যাছে… বুঝতে পারিনি!

বুঝতে পারি, যে আসে সে ক্ষয়ে যায়… আর যে আসেনা
সে ভোরের আলোয় বার্তাবাহক এই পৃথিবীতে,
যেন এ ওর মুখ দেখে সময়ের ভাঙ্গা আরশিতে।

সূর্যাস্ত পকেটে পুরে সূর্যদ্বয়ের আলো নিয়ে আসা,
পাখির পালকের মত স্বপ্নতরীতে অনন্তে ভেসে যাওয়া…

কিন্তু কে জানতো এই আলোই আগামীতে কমার্সিয়াল
হয়ে যাবে কিংবা পাখির পালকে হারিয়ে যাবে স্বপ্নসমূহ!

এই মৌন শুন্যতায় বসে একগুচ্ছ স্বপ্নই সম্ভবত হারিয়ে
যাবার কথা, স্বপ্নভঙ্গের ব্যাথা হারিয়ে যাবার কোন ব্যবস্থা
কেন যে একেবারেই নেই!

 

Comments
2 Responses to “তুষার প্রসূন-এর কবিতা”
  1. rozen hasan says:

    অসম্ভব বোধগ্রস্থ কবিতা, খুবই ভাল লাগল

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

  • কপিলেফ্ট ওয়েব জার্নাল : একটি বিকল্প লিটলম্যাগ Copyleft webjournal : an alternative littlemag

    কপিলেফ্ট। এখানকার যে কোনও লেখা যে কেউ অবাণিজ্যিক ও অলাভজনক উদ্দেশ্যে মূল লেখা ও লেখককে

    অবিকৃত রেখে প্রকাশ ও প্রচার করতে পারবেন।

    Copyleft: Matters in this site is copyleft. Everybody can reprint or republish this without modifying author and writing and without the permission of author and publisher for only noncommercial purposes

%d bloggers like this: