রবিন পারভেজ -এর একগুচ্ছ কবিতা

ফটো, একটি খণ্ড-দৃশ্য
সবুজপাড়ার সোনালী সন্তানেরা আসবে- গা থেকে ঝরে পড়ছে নুনের দেনা। পাতা ঝরার দিনে নিভৃতে ঝরছে কিছু; কেউ দেখেনি। খুঁজেওনি কেউ। লাল বালতী হাতে নগরের পথ ধরে ছুটে যাচেছ পুরোনো পুঁথির বিবর্ণ পাতার মতো প্রাণ, যদি বলি-ভালো ? ছড়িয়ে  যায় সবুজ।

হাতের তালুতে যাদের বেড়ে ওঠে সবুজ; তাদের মানচিত্রে অন্য চিত্র, অন্য নদীর বাঁক।

যাচ্ছে দিন- ফুটো পথের নির্গমনে। মুন্ডুহীন ভাবনা-চাঁদের  উঁকি দেয়া দ্যুতি ছাড়া আর সব দেনার গ্রাস, আর সব অগতির  দায়।

একখন্ড মাটিকে বলি-দাঁড়াও। রুখে দাও।

ভাইরে,
টান লেগে গেলে কিছুতেই কিছু আর কিছুতে থাকে না।

পেছনে রত্নগর্ভা পুঁথিমাঠ

ফিরে যাচ্ছো। তোমার গতির ছন্দ চলার শিল্পঢঙ চোখ ভরে দেয়। নিঃসঙ্গতা ভুলে চলমান নিসর্গ নিয়ে ভাবি। যদি পিছু নেই তো পেছনে উৎপ্রোর টান, যদি সম্মুখে যাই তো পেছনে চিত্রকল্প মাঠ। আমরা ছিলাম নদী তীর ধরে বৈকালিক ভ্রমণে, ও-বড় নদী শাসিত; জলকান্নাচ্ছন্ন।

ছড়ানো সবুজে ছড়িয়ে যেতে যেতে পাখি-বোধে উড়ি। ভেজা মাটি খুলে দেয় আন্তর ভাঁজ। পরশে ছিঁড়ে যাচ্ছে জাল, কাদা জলের মাখামাখি ভুলে তুমি ফিরে যাচ্ছ… আর বাতাসের সিঁড়ি ভেঙ্গে নেমে আসছে অচেনা পাখির পালক। এবার ফলন হবে ভাল। কাঁচা ধানের ছড়া শেকড়ে ফেরাচ্ছে চোখ-ওখানে ইতিহাস আছে-খুঁজে দেখবার।

ফিরে যাচ্ছো। পেছনে রত্নগর্ভা পুঁথিমাঠ।

তা

আকাশের হাত ফসকে পড়ে যাচ্ছে রুপালী সব মুদ্রা। তার শব্দ-স্বরে ভিজে যাচ্ছে কালো পৃষ্ঠার বুক। মুখর ব্যস্ততাগুলো বৃ হোয়ে পাতা দুলায়Ñ বাতাসের রাগিণী শুনে জেগে আছে ঘুম- আমি এবং তুমি। চলো, কান পাতি- বুঝে নেই নিসর্গের কলাতত্ত্ব- পতনের শব্দ। সব শব্দের শব্দ থাকে না, শরীরে নিতে হয় সে সব শব্দহীন শব্দের ঘটনা।

জানালায় ইশারা করছে হাওয়ার হাত। জলের উম নেশার আঙুলে নাচে, নাচায়। আমরা নকশি কাঁথার সুতোর রঙ মেলাতে বসি। আলো-কে ঘুম পাড়িয়ে উল্টে দেই দৃশ্যের পাতা।

টিনের চালে বৃষ্টি ভাজছে খৈ। অতঃপর- তোমার চিৎকার, এটুকু জলে সংসার চলবে তো ?

শূন্য, অথবা ০ কথন

একটি সুদর্শন শূন্য এসে বসে পড়ে কোলে। নড়ে না – সড়ে না, ঠায় স্থির। মাঝেমধ্যে হাত-পা ছোড়ে, যেন গর্ভে সন্তান জায়গা নিচ্ছে। কী-যে কুয়াশামুখো নাকাল সময় চেপে বসে আছে কোলে

এদিকে কত কাজ। উপচে পড়ছে ভাতের মাড়। উনুনে উস্কে দেয়া হচ্ছেনা আগুন। টেবিলে প্রাপ্তিহীন এলোমেলো থালায় শুকনো পাতার ঢঙে ঝরে পড়ছে সেকেন্ডমিনিটঘন্টা

কিছু মুখ তেতে ওঠে। বাতাসে ডুব সাঁতার দিতে দিতে স্বপ্ন আঁকে কতক বেসামাল তর্জনী।

শূণ্য যাক – নিপাত যাক

বলতে বলতে চলতে চলতে কিছু লোক কাঁপায় পথ, উড়ে খুব ধুলো। শেষমেশ
কান্ত পা জড়ো হতে থাকে মিনারের ছায়ায়। মিনার মূলতঃ মূলেই ছিলো। এখন – দিন নয়, দৈব ভাবনায় দীর্ঘ হচ্ছে প্রার্থনার হাত

প্রার্থনা আর দিন। মাঝখানে যোজন যোজন পথ, ফাঁকা

দেখি – পথটির পাশ-ছুঁয়ে গুটিকয় লোক চিৎকার করছে – ভাইসব – আসুন। আর একটি বার আসুন। আমরা বুঝতে পেরেছি আমাদের মূলেই ভুল ছিলো। আমরা আসলে বাগিচার যত্ন আর নার্সারির যত্নে দৃষ্টিভঙ্গিগত পার্থক্যটুকু বুঝতে পারিনি —

দেখনতত্ত্ব

রহস্য হলো অন্ধত্বের ভালো নাম। ঘুরে ফিরে দ্যাখো। ঘুরে ফিরে বোঝো। তারপর মুখোমুখি দাঁড়াও… আলো। তারপর চোখে চোখে চাও…আলো। রহস্য আসলে অজ্ঞানতার ভদ্র নাম। ঘুরে ফিরে দ্যাখো। ঘুরে ফিরে বোঝো। অতঃপর মুখোমুখি দাঁড়াও…রোদ্দুর। অতঃপর চোখে চোখে চাও… রোদ্দুর। সবচেয়ে প্রিয় গোলাপটিকে আমি দেখেছি বৃত্তাকার পথে…ঘুরে ঘুরে… ফিরে ফিরে। সবচেয়ে কুৎসতিকেও একই নিয়মে। এবং এভাবেই রাত্রির গহীন বোবা অন্ধকার থেকে ছিঁড়ে দিয়েছি রহস্যের প্রত্নকথা। রাত্রিকে আমি বলি ছায়াদিন। দেখবার পথ সরলরৈখিক নয়। বোঝবার পথ সরলরৈখিক নয়। বৃত্তপথ। অতঃপর… ৩০০… ৬০০… ৯০০…দৃষ্টি।

নারীকে দেখা হয়নি…এভাবে। নারীকে বোঝা হয়নি…এভাবে। সংসারে তাঁকে নিয়ে তাই  এতো রহস্যরঙ।

এক টুকরো কাঁচ, চার খন্ড কাঠ আর দৃশ্য

ঘিরে আছে ছায়ামুখ ভিড়। বর্ণশোভা কায়া। মধ্যভাগ মরুখন্ড, কাঁটাতরু সারি। এমন ডোরকাটা সময়-মানুষের আগে হেঁটে আসে বেড়াল, মানুষের আগে শেয়াল হেঁটে আসে। আলোপাঠ- সে-তো দূরের বৃত্ত, ছোট হতে হতে বিন্দু হয়ে বাঁচা-

অদৃশ্য বয়ে দিন যায় দিন আসে। দৃশ্য এক ধুয়াঘর। যেটুকু মেঝের মাটি- ঘোড়ার ক্ষুরের শব্দে ধুলোপ্রাণ হাওয়ার সজ্জায় উড়ে। বোধের ভেতর কাঠঠোকরার ঠোঁট। শকুনের উত্থিত ডানা। সাপের মায়াবী ফণা-দিনস্রোতে আসন খুঁড়ে নামে। মুখের পেছনে আরো এক মুখ, চোখের পেছনে আরো এক চোখ, ঠোঁটের পেছনে আরো এক-জোড়া ঠোঁট-নিভৃত উই, কেটে যায় ঘামের পুঁথি।

লাল মাটি ছুঁয়ে ছুঁয়ে- হাতে হাতে ছড়ানো উর্বরতার পলি, বুঝেনা ভোরের বালুচর।

পুঁথিগুলো অরণ্যে গেলে; পড়ে থাকে এক টুকরো কাঁচ, চার খন্ড কাঠ আর দৃশ্য।

চাঁদ আর চার অক্ষরের ঘোরের ভেতর

চাঁদটাকে মনে হচ্ছে নিসর্গের কপালে টিপ। আর তার জোস্না মেয়ে পৃথিবীর পাতা-চুলে বিলি কাটছে একমনে। একটা সাদা বেড়াল পথের উপর ডিগবাজি খাচ্ছে- সে কী ছিন্ন করছে অদৃশ্য সব বাঁধন, নাকি বেড়ালির জন্যে তড়পাচ্ছে- ঠিক বোঝা যাচ্ছে না।

ছেলেটি-মেয়েটি কী সব মৃদু কথা ভাজতে ভাজতে চলে গেলো। ওরা বেড়ালটিকে দেখতে পেলো না। হয়তো ওদের-ও ভেতর এ রকম একটি সাদা বেড়াল ডিগবাজি খাচ্ছে- তড়পাচ্ছে। চার অরের ঘোরের ভেতর-আঁচড়ে দংশনে উষ্ণ-দুই খন্ড মাটি, খুঁজে ফিরছে কী দুই বিন্দু শিশিরের বাড়ি ? ঠিক বোঝা গেল না।

বোঝাবুঝি থাক। পুকুরের শান্ত জলের বুকের মতো রাত-চাঁদ-আর ফুরফুরে জোস্নার ডানায়, বোঝবার চেয়ে দেখবার চোখ জরুরী। আজ রাতটুকুর জন্যে, আমি বাঙলা ব্যাকরণ থেকে , । – ; ? কাঁটাগুলো তুলে দিলাম।

Comments
2 Responses to “রবিন পারভেজ -এর একগুচ্ছ কবিতা”
  1. md. al-amin nomann says:

    valo laglo……………

  2. zuba rahman says:

    ভালো লাগলো…

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

  • কপিলেফ্ট ওয়েব জার্নাল : একটি বিকল্প লিটলম্যাগ Copyleft webjournal : an alternative littlemag

    কপিলেফ্ট। এখানকার যে কোনও লেখা যে কেউ অবাণিজ্যিক ও অলাভজনক উদ্দেশ্যে মূল লেখা ও লেখককে

    অবিকৃত রেখে প্রকাশ ও প্রচার করতে পারবেন।

    Copyleft: Matters in this site is copyleft. Everybody can reprint or republish this without modifying author and writing and without the permission of author and publisher for only noncommercial purposes

%d bloggers like this: