সঞ্জীব পুরোহিতের কবিতা

আমার এতটুকু

আমাকে এক চিমটি নাও
তোমার আঙুলে
এক থোকা লবণ—এই আমাকে
নাও—নিয়ে মাখো—ভালোবাসার পাতে
উপহাসে নয়—অপমানে নয়—বিলাসিতায় নয়
চাহিদায়;
বেশি নয়—খুবি সামান্য ও পরিমিত

নাও—মাখো তোমার ভাতে
বেলী ফুলের শাদা ভাত
ঝরেছে সারা রাত
আমার বুকে তার গন্ধ
‘ও হাঁড়ি উপচে পড়া বাষ্প’ নিয়েই দেখো
তবু বেশি নয়, বেশি  হলে ফুলেরা মারা যাবে—

নাও তোমার ক্ষুধায় এবং চাহিদায়
ঘাম ও অশ্রুতে সঞ্চিত
শাদা শাদা রেখা ছুঁয়ে, চিবুক ও পিঠে
আর চাবুকের নোনা স্বাদে
তার থেকে সবটুকু নয়, আমাকেও নয়
আমার এতটুকুকে!

কবিকাক

লাল হাঁড়ির মুণ্ডু, চকে আঁকা চোখ। কাকতাড়–য়ার কাঁধে চড়ে বসেছে কাক। ঠোঁট শানাচ্ছে মুখে। আকাশের চোখ এড়িয়ে বাতাসের নাক এড়িয়ে ওটি একটু হাসলো। ফিসফিসিয়ে বললো : সুড়সুড়ি লাগছে।

সাপে-নেউলে বন্ধুতা হলে খবর আছে! এক ফিনকি ছোটা জোসনা রাতে সবাই ঘুমে। ডাল ছেড়ে নেমে এলো কাক। বেড়াতে বেরুলো দু’জন। হিসু করতে জাগা এক শিশু তা দেখে খিলখিল হাসতে হাসতে পিছু নিলো। ওকে দেখে ফ্রিজ ব’নে গেলো কাকতাড়ুয়া। কিন্তু শিশুটি নাছোড়। কাক বললো, যাই বলো ভাই, ও কিন্তু সাধারণ ছেলে নয়। নইলে ভয় পেতো। কেমন লেনিন লেনিন মুখ চোখ।

টেক্সাসের মেয়র কাকমুক্ত প্রদেশ গড়বে। পালক পোড়াতে আর পাড়া ছাড়াতে ব্যবহার হবে লেসার। বিবিসির এ খবর দু’বন্ধুকে শোনালো শিশুটি।

ইথিওপিয়া, নাইজার, বসনিয়া আর নানা দেশ থেকে কোটি কোটি প্রান্তিক মানুষ লংমার্চ করবে অ্যামেরিকা অভিমুখে। আজকের গিন্সবার্গরাও দানা বেঁধেছে। কাকতাড়ুয়া হবে সবার বর্ম।

নুনের মতো ভালোবাসা

কে আছে থৈথৈপুরে সকল জলজ সুরে
সে গাইতে পারে জলকন্যার কাছ থেকে শেখা গান
আমি জানি এর মানে

চাইলেই তোমার উঠানের অদূরে পরিত্যক্ত কুয়ার তলানিতে
বেঁচে থাকা ক’পেগের বোধ করতে পারি অনুবাদ
লবণজল বিস্তার করেছি জন্মাবার আগেই
দুধের বাটিতে মুড়ি ছড়িয়ে কতকোটি পির পির প্রাণের কোরাস শুনেছি
আর স্তন্যদাত্রীকে বলেছি তার মানে এ :
ফেঁপে ওঠা দানারা ছিলো হিল্লোলিত তৃণের ফেনা
প্রতিটি কচি ধানের ভেতর হেসে উঠেছিলো দুধেরা

মা তখন চিনি মেশাতে মেশাতে কথা ঘুরিয়ে নিয়ে গেছে
মৎসকুমারীর জলগ্রামে
কেনোনা খোকার মুখ থেকে গল্প শোনার রে’য়াজ শিশুপাঠ্যে নেই
আমি তখন ওকে দিয়েছি জলকন্যার বিবরণ;—

নুনের মতো ভালোবাসা বেসে যে কন্যা রাজপিতাকে হারিয়েছে
কোনো গাছের নিচে নয়, বেয়ে বেয়ে সে উঠে যায় মগডালে
লোনা জলগুলো গাল বেয়ে ডাল বেয়ে গাছের গোড়ালিতে জমা হলে
অভূতপূর্ব শিহরণে কেঁপে ওঠে
প্রেমের প্রতিদানে কন্যাটি পী হতে চাইলে বৃরাজ নুনের পাখি করে দেয়

পিতাপ্রবণ এক ঈগলের পিছু নেয় সে
সমুদ্র’র মিঠা জলের উপর দিয়ে সে যাচ্ছিলো উড়ে
বয়সে সে ছিলো বৃদ্ধ, নখ-চোখের তীক্ষতা আর শিকারের মতা সে হারিয়েছে
সবুজ ঈগলরা ছুড়েছে তাকে পরিহাস-পাথর
যেমন অ্যামেরিকা একদিন হারাবে;
বৃদ্ধ ঈগল স্বভাব নিয়মে সমস্ত শক্তি দিয়ে গভীর থেকে গহীনতর সাগরে যাচ্ছিলো
এক সময় শক্তি ফুরিয়ে আসে, ফেরার জো থাকে না, এভাবেই আত্মহত্যা করে সে; ওর সাথে ডুবে মরে পিছু নেয়া সে নোনা পাখি

প্রতি পলে অভিমানি ভালোবাসার পিছু নিয়েছে সহমর্মী ভালোবাসা
ওরা সাগরকে করেছে মধুর মতো নুনময়
পালক কোমল জলকন্যার শ্বাস
সম্পূরক ভালোবাসার গবলেট ঠেলে বুদবুদ হ’য়ে ফুটছে
শিশুর পালঙ্কে পালঙ্কে ছড়িয়েছে এর সুবাস

সাগর মানে প্রাণের উত্থান এবং সমর্পণ
নুনের মানে সে আছে থৈথৈপুরে জলের সুরে
জলকন্যার কাছ থেকে শেখা ভালোবাসার গানে

Comments
One Response to “সঞ্জীব পুরোহিতের কবিতা”
  1. aparajita1971 says:

    ধন্যবাদ মিত্র।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

  • কপিলেফ্ট ওয়েব জার্নাল : একটি বিকল্প লিটলম্যাগ Copyleft webjournal : an alternative littlemag

    কপিলেফ্ট। এখানকার যে কোনও লেখা যে কেউ অবাণিজ্যিক ও অলাভজনক উদ্দেশ্যে মূল লেখা ও লেখককে

    অবিকৃত রেখে প্রকাশ ও প্রচার করতে পারবেন।

    Copyleft: Matters in this site is copyleft. Everybody can reprint or republish this without modifying author and writing and without the permission of author and publisher for only noncommercial purposes

%d bloggers like this: