শ্যামল দাষের একগুচ্ছ কবিতা

সামান্য আগুন

 

কুকুরের মতোন দাঁত খিঁছিয়ে  কিছু

বলতে না পাড়লে আজকাল আর

কাউকে বোঝনো যাচ্ছে না যে

 

অনুরূপ আমিও তার মতই

সামান্য কিছু দাঁতের অধিকারী ।

আগেও তো তারাই ছিলো, এখনো ?

 

আর যদি তা খুব বেশি না হয় দরকারী

হচ্ছেই তো রণে বনে জলে জঙ্গলে

সভা সমিতি পার্লামেন্টে ? হচ্ছে না !

 

দাদা যে কি বলেন না মাইরি –

সব শলাই দেখছি অঢেল সুন্দরী

কাকে আর কি বলবো মশাই

 

আমাদের তো ফুরিয়ে যাচ্ছে

নুন আনতে পান্তাই ।

যাচ্ছে না ? যাবেই ।

 

আপনিও যাবেন তো ? যান । আমি

এই শীতের রাতে ঠক্ ঠক্ করে কাঁপছি

সামন্য আগুন পেলেই বিড়ি জ্বলাবো, ভাই ।

 

তোর কথা, তার কথা

 

আয়োজন ফুরিয়ে গেলে পর মনে হলো

তোর কথা । কতো লোক এলো গেলো

সুবর্ণ কঙ্কন পরা ফর্শা রমনীরাও ছিলো ।

 

বিস্তর হুটোপুটি ছিলো । কায় কেচ্ছা, ছিলো

নাকি কিছু কম সে দিন আমাদের আসরে ?

ছিলি না শুধু তুই । কেন যে তোরে..

 

সেই মালটাও ছিলো মাইরি ! যে কিনা

তিরিশ বছর আগেই পড়ে ফেলেছে সব

নতুন কিছু আর পড়ার দরকার নেই, বলে

 

একদিন যে ভীষন শাসিয়ে ছিলো আামাদের

চায়ের টেবিলে; মনে আছে ? গতকাল কেন

যে একবারও মনে হলো না তোকে !

 

আর ঐ পরী নামের সেই বালিকা । যার

বিয়ে হয়ে ছিলো হাফ পেন্টেই; মনে নেই

উফ্ মা মাইরী, কি নাইস্ তার মেয়েটা !

 

আয়োজন ফুরিয়ে যাওয়ার অনেক পর মনে হলো

তোর কথা । কি জানি কেন সব মনেই পড়ে না ।

 

জলকেলি

 

কোথায় না আমি মাখিয়েছি বিষ !

ফুলে ফলে, জামে জামরুলে

 

ভিমরুলের শাল’কেও দারুণ

ভোতা করে দিয়েছি তো –

 

দেইনি ! আয়নায় কি আর

দেখা যাবে – পুরোনো ছবি ?

 

এই সব বিচিত্র মানুষের দলে

মিশে; আমিও কী নেই নি খুঁজে

 

সেই সব কাজ – যদিও তাতে রয়েছে –

ভীষণ জোড়াতালি । করি চুরি চোট্টামি ।

 

তলে তলে গোড়া কেটে নিয়ে সব

প্রকাশ্যেও দেখাতে পারি অপরূপ জলের কেলি !

 

দাগ

 

যদি চলে যাই ! যদি আর ফিরে না আসি

তোমাদের এই কাটা বছানোর পথে

 

উপরন্তু মনে আর কিছু নিও না ব্যাথা হে

নিজেকেও পারিনি যে কোনদিন শুধরাতে !

 

দাগ মাড়িয়ে যাওয়ারও বহু বহু আগে

তোমাদের শেখানো পড়ানো ভালোবেসে

 

আমি কী জল্লা হয়ে একটু ভাবিনি শেষে

এপথেও বিস্তর গোল্লাছুট, গোলক ধাঁধাঁ

                                                 আছে ।          

 

হিংসা, হিংসা

 

[ অত্যাচারী কংসের উদ্দেশ্যে দৈব বানী

করলেন যশোদা কন্যা – মহামায়া ]

 

তোমারে বধিবে যে

গো’কুলে বড়িছে সে ।।

 

তুইও বাড় । বেড়ে উঠ ।

দুচোখে গিলে খা –

 

সমস্ত অদ্ভূত !

খুঁজে দেখ সবখানে

 

কি আছে অথবা নেই

ছুঁৎ, আচ্ছঁৎ !

 

যাবি তো যা । কে রোখে –

মলিন ময়লা ফেলে

 

হিংসা ও ক্রোধ ।

যদি বা কংস প্রতিম !

 

বড়ো নীচ্ । শোধ –

প্রতিশোধ ।

 

রেখে দে এই সব

হিংসা, হিংসা ।

 

তুইও বাড় । বেড়ে উঠ ।

 

ব্রতী

 

এখন আমার দুঃখ হয় না, কষ্ট হয় না ।

 

শোকের চেয়ে সুখের রেনু

হাওয়ায় উড়ে, আকাশ থেকে আকাশে যায়

 

যোজন যোজন পথ পেরিয়ে

মিলিয়ে যায় – প্রোটন থেকে নিউট্রনে

 

গতিরও খুব ঈর্ষা বড়ো

কল্পনাকে ছাড়িয়ে যাবে

 

কিন্তু ওসব ছেঁদো কথা

তারও ভীষণ পাখনা আছে

 

যদি  চোখে যায় না দেখা

এক্সরে কিংবা যন্ত্র নেড়ে

 

তথাপি প্রেমের পূ্র্ণজ্ঞানে

ভাসতে ভাসতে, কাল থেকে যায় কাল অবধি

 

এখন আমার দুঃখ হয় না কষ্ট হয় না ।

সুখ কিনে যে দুচার আনা

 

হাতের পাঁচে বাঁচিয়ে রাখি

কিন্তু ওসব কি হবে আর

 

রেখে ঢেকে – বালক তোমার

ঘুড়ির জন্য – বেহিসাবের ব্যয়ে ব্রতী ।

 

তুমি কি তার মূ্ল্য জেনে

বাড়িয়ে দেবে হাত দুখানা

 

কুঁড়িয়ে নেবে কিশোর বেলার স্বপ্নগুলি ।

এই খোলা মাঠ

 

উদার আকাশ হাজার কবি

এখন আমার দুঃখ হয় না, কষ্ট হয় না ।

 

যাই, তাড়া আছে

 

ভেঙ্গে যাওয়ার অনেক আগেই

তাতে ধরে ছিলো ফাটল – যদিও

আমরা কেউ বুঝতেও পারি নি ।

কোথা দিয়ে কি ঘটে যাচ্ছে, ঘটনা

অন্তরালে কি কি ঘটে আর কি কি

ঘটে না । আমরা – অনেকেই

অনেক কিছু জানি বটে যদিও কেউ –

তেমন অঘটনঘটনপটয়সি না ।

একজন কবি এসে বললেল –

এই শোন – কিন্তু আমার তখন

মুরগি কেনার তাড়া; তার ফাঁকে

চিলের মতো ছোঁ মেরে নাতিকেও

তুলে নিতে হবে তার স্কুল থেকে –

না হয় মেঝো বউ ভিষণ বেদাবে !

আচ্ছা তুই বল আমার কি

সে সব কিছু শুনবার সময় আছে

নাকে মুখে দু’চারটা গুজে ফের

বেড়িয়ে যেতে হবে তৎক্ষনাত –

বাটাপাড়ার ঐ ছেলেদের হাতে ।

সেখানে আমাকে  আবার পুকুরচুরি –

প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি করেছে হে

রাতে দেখা হলে খুলে বলবো সব । যাই…..

 

আমার যা কিছু প্রেম

 

আমার যা কিছু প্রেম, তোমার জন্য

আমার যা কিছু ঘৃনা; সেও এখন

তোমার জন্য ।

 

এই যে আমি আমার থেকে হাজারো মাইল

দূরে থাকি, গুটিয়ে থাকি নিজের ভেতর

কথা হয়না ।

 

অনেক দিনই চিঠি দেই না

চিঠি এলে জবাব দেই না; সে সবই এখন

তোমার জন্য ।

 

তুমি তোমার আসন থেকে সড়ে দাড়ও

আমি আামার আসন থেকে পালিয়ে

কিসের মায়া !

 

কোন ছায়তে ঘুরতে ঘুরতে অবিনাশী

বিকেল বেলা বাতাম থেকে খোসা ছাড়ায়

বুঝতে পারো ?

 

আমার যা কিছু প্রেম, তোমার জন্য

আমার যা কিছু ঘৃনা; সে সবই এখন

তোমার জন্য ।

 

যুদ্ধ

 

ঠিক ঠাক মনে আছে ।

তোমাকে লেখা প্রেমের চিঠি

ভাঁজ করে রেখেছি দেরাজে ।

 

তারপর অনেক পথ পরিভ্রমন শেষে

অনেক আলোর ইয়ার কি সয়ে

এখন ফিরেছি ঘরে । ক্লান্ত অবসন্ন ।

 

ঘরে কিছু ইঁদুর ও তেলাপোকা আছে

তারা যদি সেই মতো পৌঁছে যায় যদি

যদি পৌঁছায় আজ রাতে –

 

তাহলে ? তাহলে

আগামীকাল সকাল বেলা

দু’টাকার যুদ্ধ থেকে নিশ্চিত নিষ্কৃতি ।

Comments
One Response to “শ্যামল দাষের একগুচ্ছ কবিতা”
  1. অনুপম says:

    khubi sundor !!

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

  • কপিলেফ্ট ওয়েব জার্নাল : একটি বিকল্প লিটলম্যাগ Copyleft webjournal : an alternative littlemag

    কপিলেফ্ট। এখানকার যে কোনও লেখা যে কেউ অবাণিজ্যিক ও অলাভজনক উদ্দেশ্যে মূল লেখা ও লেখককে

    অবিকৃত রেখে প্রকাশ ও প্রচার করতে পারবেন।

    Copyleft: Matters in this site is copyleft. Everybody can reprint or republish this without modifying author and writing and without the permission of author and publisher for only noncommercial purposes

%d bloggers like this: