পরিতোষ হালদারের কবিতা

উষ্ণতা

ভীষণ উষ্ণতা জাগে। চোখের চপল বেয়ে টলটলে ঘ্রাণ নিয়ে মৃত্যুর মতোন রূপ নামে। মাথার উপর টাঙানো আকাশ। আমার সীমায় শ্লীল-অশ্লীল কিছুই নেই। শুধু চাঁদের পালান জুড়ে প্রান্তিক নত্র খোঁজা। কোনোদিন ঘুম ভেঙে জেগে দেখি মাঝরাত শুয়ে আছে আমার শয্যায়, ঠিক যেন বৌয়ের শরীর। ব্রহ্মপুত্র জলে তিন তিন বার দেখেছি দেবীদের স্নান উৎসব, লাজধোয়া অমৃত শরীর। আমার গোপন খোয়া গেছে চতুর গোপনে। আমিও বহরে হাঁটি যোজন যোজন। যাযাবর বিশ আঙ্গুলে খেলে বিংশতি পল-অনুপল। কোথাও হঠাৎ থেমে জীবনের পায়ে আঁকি অমরত্বের সুবর্ণরেখা। কখনো আবার অন্ধকার কামারশালায় জ্যোৎস্না বানাই একা একা এই মৃত্তিকায়।

চুমুক

চারিদিকে ভীষণ চুমুক ভীষণ কাজলরেখা অন্ধকার। প্রার্থিত আলোরা উড়ে গেছে বিহঙ্গের ডানায় ডানায়। বিষাদের বন জুড়ে বাতাশের সন্ধ্যালতা ঝড়। গাঙের পরান ছোঁয় জলধোয়া  কুসুমের নিশা। মাছ ললনার চোখে আজন্মের অর্জুন বিষাদ। যে যাবে যায় না কেনো! মাঝখানে চোখবাঁধা গান্ধারী বিলাস। যারে ছুঁয়ে দেই সেই কয় আমিই বিহন। অরণ্য দিয়েছে ডাক, চল অন্ধকারে যাই্, অন্ধকার আমার তৃষ্ণার জল।

জলতৃষ্ণা

এক পুরুষের হাতে আগুন দেখে একজন নারী এসে বিছিয়ে দেয় জলের শরীর। পুরুষ সেই শরীরে রাত্রি আঁকে, জলকাব্য লেখে আর লেখে বাৎস্যায়ণ কলা। নারী একসময় আগুনে যায়- সে কাঁদে আগুন-আগুন জলে। একটু দূরে এইসব দৃশ্য দেখে নদী, বৃ আর মানুষ। নদী ও বৃরা বলে- আমি নারী হবো; পুরুষগণ বলে- আমিও নারী হবো। নারীগণ কিছুই বলে না; তারা কেবল জলের প্রার্থনা করে।

জলযাত্রা

মৃত্তিকার নিদাঘ শ্রাবণে তুমি কী ফোটাতে অশ্রুসিদ্ধি ছয়ঋতু ফুল। আদিরস পানে ব্যর্থ মন্দাক্রান্ত জল। কামবতী সীমায় সীমায় নিদ্রা রেখে ছুটে গেছো রাতের ওধারে। তোমার মৃদঙ্গ তালে নীল ছলছল চন্দ্রমাতৃক হাওয়া। জলের গহনা গায়ে আমিতো ছিলাম গহীন স্বদেশে- হেমগন্ধী বুড়িপ্রেম শিসে। যখন সাগর ছুঁয়ে যেতো হীমালয় তনু, তখনো লবণ চোখে দেখে নিতাম তোমার শরীর। সিন্ধু-শতদ্রুর ডুব তীর্থে অনাগত সোমেশ্বরী-সুগন্ধার ঘ্রাণ। তুমি বিন্ধ্য পর্বতে হনন রেখে স্রোতে ভেসে ভেসে খুঁজে নিতে দ্বীপকলি লোহিত মোহনা। তারপর পুষ্পহীন কোনো এক বৃতলে তুমি একা- আমি একাকার।

রূপটান

সাত-গাঙ থই বুকে কে তুমি উছল! ভাবের কপালে আঁক চারু-রাত টিপ। ওধারে জলের নাও, ওই পাড়ে মান খোলা ছই; নুন আলো গলে পড়ে মহুয়ার প্রথম উড়াল। অন্তরতা চুয়ে-ছুঁয়ে আজ কোন অনন্ত বানাও; আসমুদ্র দ্বিধাহীন পথের হুতাশ। ঘুমের পালঙ্কে শুয়ে- রাত দেখ, চাঁদ দেখ! চাঁদ বুঝি গহীনের বউ; দাদাগো- রূপটান মারো…..ঠিক দেখো ঝরে যাবে বাতাশের মউ।

লীন

তোমার শরীর ছুঁয়ে ধূসরের মায়াবতী ঘুম। হীম পাথরে রৌদ্রের ঘ্রাণ রেখে পাখিরাও উড়ে গেছে ব্রাহ্মাণ্ডের ধারে। নাশপাতি গাছে তাই বিনাশের তৃষ্ণাতৃষ্ণা খেলা। নিধুবনে ফুলসজ্জা মেঘ ও বৃষ্টির। গহীনের রূপ ছূঁয়ে দীর্ঘ হয় রাতের বুনন। তুমি যেন শাদা ক্যানভাস- তামাম নিসর্গ আজ উপো তোমার। চারিদিকে সময়ের নিসিন্দা সমীর। বাসব আগুন বুকে আমিও কী নিঃশেষিত তোমার তরলে।

আরশিনগর

গাছে গাছে নিঃশব্দ কুসুম। আমি যাবো- ওই বাগান আমার, ওই শিল্পরেখা আমার বিস্ময়। আকাশ বোনের বুকে নীলের গহন। আমি তার সহদর ভাই। আমার পেছনে ধবলিমা স্মৃতি, দৃশ্যের দু-চোখে অনন্ত সুমুখ। অধিক জন্মের ঘোরে কার চোখে রেখেছি ডাগর। সেই সোনার চাঁন কই গেলো, তারে খুঁজি রাতের গোপনে। লালনের হাত ধরে হাঁটি, ছেঁউড়িয়া পার হয়ে যাই- কতদূর আরশি নগর।

জোনাক পাথর

চারিদিকে প্রার্থনার পাঞ্চালি বাতাশ। চোখের তারায় মাছরাঙা জলের হিজল। ডানাওয়ালা আকাশ উড়াল দেয়, বুক জুড়ে মোমআগুনের নিশি। অন্ধকার চুয়ে নামে পৌষের পরজবতী ঘুম- সমুদ্রের নীলগিরি জ্বালা। দিনভর ফিরে যায় লাল-নীল ছায়ার মিথুন, আরশির বিদিশায় উজার শূন্যতা, দুই হাতে মেঘের মল্লার। কে তুমি প্রত্নচারী, টানা শতাব্দী ঝুলে আছো জোনাক পাথরে; পাখিদের সুগন্ধ বাগানে আরও কিছু দিন। জ্যোৎস্নার শিশির জলে টুপটুপ নিমফুল চাঁদ, আকাশে আকাশে দুধরঙ শাদা পাখি।

উড়াল

এখনো ভীষণ তৃষ্ণা। কপোতা মরে গেছে বুঝি বুকের চড়ায়। পাতাঝরা উষ্ণ অভিমানÑ ঋতু আসে ঋতু যায়; নির্জন ঘুমিয়ে থাকে নিষাদ জঠরে। যে যাবে সে তো যাবে, জিরাফের উঁচু চোখ কোনদিন খুঁজবে না তারে। বনসাঁই হাওয়ায় ওড়ে পাহাড়ের আদিবাসি ঘুম। কুয়াশারা ডুবে যাবে বালিকার তুমুল শ্রাবণে। মৃত্যুও অমরত্ম পাবে এইসব খেয়ালী বেলায়, জ্যোৎস্নার তামাম বুকে মৃত অন্ধকার। বাল্মীকির ধ্যানে শরবিদ্ধ অন্য পাখি। ফুরাতে ফুরাতে দীর্ঘ হয় সময়ের আয়ুÑ শূন্যতার লবঙ্গ উড়াল। আমিও রাত্রি জাগি, রাতভর্তি আপেল গড়ায়।

অথৈ পুরাণ

দূরে যাব। বিষণ্ন রাতের মত দূর। গোল অন্ধকারে দাঁড়িয়ে নিজেকে ডাক দেবো ফের। অজুদ অতল থেকে খুঁজে নেব মেঘনাচের অথৈ পুরাণ। রাংতা পাতার বনে কুসুমের মৃত হাহাকার- চন্দ্রধ্বনি নিশা। অগ্নিপারা ছুঁয়ে যাবে যৈবতীর প্রথম সন্ন্যাস। আরো দূরে সময়ের অস্থির পালক। নত্র পরীর ডানায় ছোপ ছোপ সারেঙ্গী হাওয়া। যে পাথরে হাত রাখি তার নাম নীলা। নদীও পাথর হয়, জলের গোপন জলে চূর্ণ পরকীয়া। আজ রাতে উজ্জয়নী ছেড়ে যাবে অসংখ্য রমণী; আজ রাত ফেটে যাবে গুচ্ছ গুচ্ছ অলকায়।

একাকী খনিজ

ভুলে গেছি সব। কোন হাতে পাত্র রাখি কোন হাতে সোনার গোলক। ঘনকুয়াশার বনে হাঁটতে হাঁটতে ফিরে গেছে আমার সকাল। তিস্তা-বেগবতী-নিলাী কত শত নদীর নামে তোমারে ডাকতে গিয়ে প্রাণের শ্রাবণে কখন যে হয়ে গেছি জল। রূপালী শস্যের টানে সাঁই সাঁই উড়ে আসে পাখিদের ঝাঁক। ফরিঙের ঘাস দেহে উদ্যানের প্রগাঢ় মমতা। কেবল  ছায়ারা ডাকে, পার হয়ে যাই রোদের বেলা। অনেক গোপন ঘেটে যা কিছু তুলে আনি তার দেহে শ্যামল আঁধার। বুকের ওড়নায় রাত্রি ঘুমিয়ে থাকে, তারে তুমি জাগালে না- জাগালে না সংঘমিত্রা ধ্যানে। অজস্র ধোঁয়ার মতো জ্যোৎস্না নামেÑসারারাত ঘুমাতে পারিনা, সারারাত চুরি হতে থাকে পাহাড়ের কাঞ্চনজঙ্ঘা ঘ্রাণ। নত্র তারার নীচে সাড়ে চারশ কোটি বছর পড়ে আছি একা। তোমারে হারাতে গিয়ে অবশেষে জেনে গেছি তুমিও একা আর ভালবাসা একাকী খনিজ।  

চন্দ্রদ্বীপ

আমিতো উড়ালজীবী- পাখিদের পাখায় পাখায় বসন্ত বাহার। চন্দ্রদ্বীপের দিগন্ত ছূঁই, সুগন্ধার ঘোলা জলে গড়ে তোলা শতাব্দী পুরাণ। নিজের আবাল্য হরণ করে পালিয়েছি ঘাসেদের  কাছে, নদীর চড়ায় চড়ায় আমার সকাল। চাঁদের চন্দন জ্বলে, ক্রমাগত কবিয়াল ঠাট- আকাশ বিলীন বুঝি নীলের গহনে। সমতটে শুয়ে থাকি, কান পেতে শুনে যাই জলগন্ধি সমুদ্রেরর গান। কৃষাণী খনার হাতে ভবিতব্য রেখে পেয়ে যাই আগামীর খোঁজ। অন্ধকারে ডেকে ফিরি আয় পুরাণের পাখি আয়- তোর সাথে ঘর করি, তোকে  আজ কুটুম বানাই।

পরকীয়া

আমার কোথায় ঘর- আমিতো ঘরহীন ছায়া। অমরাবতীর ধারে বাস করেও শেষ হলো না জীবনের সাধ। তাই ছেড়ে গেছি উজান নগর। কন্যাকুমারী থেকে দ্রাবিড় বঙ্গে আজও খুঁজি প্রিয়তমা জলের বালিকা। মানসের কুলে যাকে হারিয়েছি অহংকারী রাজহংসের ডানায়। বলেশ্বরের কিনার ছুঁয়ে দাঁড়িয়ে থাকি, এই পথে বেহুলাও গেছে বুঝি ইন্দ্রের সভায়। অন্ধকারে কেঁপে ওঠে অন্ধ পরকিয়া। নিদ্রার ওপারে ডাকে খুল্লনা সুন্দরী। ভাগীরথী-জলাঙ্গীর পাড়ে ঈশ্বর ঘুরে বেড়ান- হাতে বীজতত্ত্ব, পিঠে গন্ধমের ঝুড়ি।

স্বজন

আমারে স্বজন করো। আমারও সুপ্রীতি আছে, আছে মানগন্ধী সুখ। তিন নদী খুলে রাখি- তুমি কোন অলকানন্দা জল, কতটুকু ভাসাতে পার আমার উপল। দীর্ঘ রাত্রি শেষে খুলে যায়  জলের বুনন। টেরাকোটা মুগ্ধতায় আমিও যে চন্দ্রচাঁদ প্রাচীন তুষার। কে তুমি সুদূরগামী। দূরের প্রান্তরে জনন জোছনা নামে। শকুন্ত ছায়ার নিচে বড় হয় পূর্ণবতী শিশু। তোমার চাতালে যাব, আমারে বসতে দিও; ছায়া-মায়া-কায়া দিও, দয়া দিও; আর দিও জামবাটি অসুখ-বিসুখ।

যোজনগন্ধা

জন্ম জুড়ে যোজনগন্ধী হাওয়া। ডাহুকের ভোর বুকে নদী ও সূর্যের ছল। আলোর দরজা ঠেলে বিকেল আসে, সাথে অবগাহন শূন্যতা। বিনাশী ছায়ারা লাজ খোলে, প্রাণের সমুদ্রে গোল ধাঁ ধাঁ জল। জন্মসুত্রে টান জাগে, আহা! পলাশ মুগ্ধতা। কামসিন্দুরে লেখা তন্ত্রপুরাণ- মৃতের সজ্জায় ঘুমাও কাম্যাা সুন্দরী। তুমি কোন আদিমাতা নারী, তোমার পায়ের নাচ নিয়ে গেছে মদন কুমার। তারে দিও ষড়ঙ্গ সাধন। বিনিময়ে রাত্রি পাবে, পাবে জল;  ঘুঘু অন্ধকার।

সম্পূরক    

বেদনা রাতের নিঝুম। আসঙ্গ ডুব দেয়, অন্তরীে সমউষ্ণ জ্বালা। নিজের স্বপ্নের জালে নিজেই জড়ালে তুমি। প্রাগজ্যোতিষ ধরে হাঁটতে হাঁটতে পৌঁছে যেতে কিলক বনে। দণি সাগরে ভাসিয়ে দিতে লালমাইয়ের আনন্দময় পলি। তোমার যোজন চোখে বরফজন্মের ভাটিয়ালী। কখনো ভাবিনি কতটা পুরুষ তুমি, কতটা রোদন। এখন মৃত্তিকা জুড়ে বীজভাঙা নবীন ছলক, পাতায় পাতায় মাদল বাজানো হাওয়া। সমুদ্র সরে যায়, আমি বৃরে বনে প্রথম জাতক। অরণ্যে হারিয়ে গিয়েও খুঁজে পাইনি গহীনের পথ। এখন উড়ান বুকে জেগে থাকি। দুহাত বাড়িয়ে ডেকে যাই, ল কোটি আলোকবর্ষ পরে হলেও তুমি আসবে; স্ফটিক আলোর মতো এই সমতল সীমায়। এবার তুমি এলেই আমি যাব, আর দাঁড়াবো না।

পাখি, সমুদ্র ও শূন্যতত্ত্ব    

দাঁড়াতে পারিনা, দূরে চলে যাই। অতসী বিম্বের গায়ে কাঁচের গহনা। কী ব্যাকুল ছিলো বেলা- তেঁতুল গাছের তলে কোন কোন পূর্ণিমায় পরী নামতো, যার শরীর ভর্তি এলাচ গন্ধ।  এইসব নারীদের দাদা দেখতো, আমি দেখেছি দাদিকে; তেল-নুন-লংকা দিয়ে তেঁতুল মেখে আমাদের হাতে হাতে বিলিয়ে দিতো। তখন সব ছিলো, এখন নিজের ভেতর ভীষণ খুঁজেও পাইনা কিছু। শৈশবে যে বৃরে সবুজকে বলেছি লাল, সে বৃ নেই। তবুও সেই থেকে টুক টুকে সবুজ আজও আমার বুকে লাল হয়ে আছে। অথচ নিজেকে কামারশালায় বানানো শূন্য মনে হয়। এখন নিজের ছায়াও হেলে পড়েছে, রোদ্দুর যেন পাখি। এইসব পাখিরা মৃত সমুদ্রের গান শোনে। একদিন সমুদ্রও উড়ে যাবে পাখিদের মতো, কোথায় জানিনা।

নেমন্ত্রণ

চম্পক নগর ভাসে বিজু উৎসবে। তুমি কোন পৌরাণিক নারী। কানে আকাশ ফুল, চিবুকে জুম ফসলের মায়া। পায়ে কাচলং জলঘুঙুর। রাজহংসী ছন্দ দোলা তোমার শরীর। আমার  হালখাতায় লিখে নিছি নাম, পাওনা দিও আগামী মৌসুমে। তোমার বাণিজ্য নিয়ে হাজির থেকো আমার মোকামে। রেখে যাই নাম ধাম বুকের নিঃসীম। পশ্চিম মুল্লুকে বাস সহজ মানুষ। আমিতো আপন জন, অতিথি পরশি। তোমার খ্রেখ্র্রং দাও দিয়ে যাই বাঁশি।

আদিকার

যখন দীঘল জলে হাত রাখি, বুকের সমুদ্রে কাঁদে সাত সহদর। ঝিনুকের চিরল শৈশবে বালুচরী রাত। তের কুমারীর পায়ে নদীর  ঘুঙুরÑ সাঁতারের আদি পাংশুল টান। মৃত্যুভোজী হরিণীরা সাম শোনে একটানা কস্তুরী নিশায়। দিগ জুড়ে অধর অরণি। তুমি ডাক দিলে পাথরে পাথরে জেগে উঠি জন্মছোঁয়া প্রাচীন কুসুম। জল ও অনল জ্বলে, প্রাণ জালে রতি  দীর্ঘশ্বাস। দেহের বিদেহী তুমি লতাসিদ্ধি চন্দ্রভেদি ছায়া। তোমারে ছুঁইয়া দিলে আমি যেন আদিকারÑ কোন অন্ধকার।

আলোকলতা

পথ জানা নেই, তবুও পথে পাথে হাঁটি। নিমকষ্টের বনে রাতের নিঝুম। জ্যোৎস্নাপোড়া ছাই নিয়ে হেঁটে যাবো, আমাদের হাতে হাতে চাঁদের পরাগ। সবুজের রঙ ছুঁই, সুবর্ণরেখার কোলে রূপের মহড়া। আমি পাথরে-পাহাড়ে-গুহায়-হাড়ে লিখে নেব তোমার কাওয়ালি- ষোল কলায় গাঁথা পূর্ণবতী বাণী। তুমি আকাশে আকাশ হয়ে ডেকে যেও আমার বিস্ময়। জেনে রেখ আমি আর তুমি ছাড়া নিসর্গের সকলই পুরাণ। সকলই ছিল, আমাদের জন্মের অধিক আগে। জীবন ও মৃত্যু থেকে উঠে আসা আমরা, যারা হাঁটতে হাঁটতে একদিন চলে যাবো অহমের দেশে, ফেলে যাব হাঁস বালিকার শাদা গন্ধÑ জলডুবি দিঘি; যুগল জন্মের আলোকলতা।

উজান নগর

রাত নামে- কোলাহল শেষে স্তব্দ নিয়ে ফিরে আসি। নিজের অন্ধকারেও নিজেকে চিনি না। শরীরের ইথার বেয়ে উঠে আসে তিনশ পয়ষট্টি দিনের সংগোপনী আশা। জলের সজল চোখে লাবণ্য খুঁজি, তুমিতো হারাতে চাও তোমার প্রাচীনে। সময়ের টং ঘরে শুয়ে থাকে অজস্র গোপন। মায়াবী ঘুমের শেষে হাতে করে নিয়ে আসি রাতপোড়া আলো। অরুন্ধুতি এই নাও ছায়া, তোমার তৃতীয় অন্ধকার। অন্তত তুমিতো জান, সেদিন প্লাবনে ভেসে ছিল আরও একজন, সে আমি। তোমার পথে হাঁটতে গিয়ে দেখি এই পথে গেছে কত জন। লালনের পায়ের চিহ্ন দেখে আঁতকে উঠিনা। এক বন্য দোয়েল আমাকে পথ দেখায়, পেয়ে যাই উজান নগর। এই গাঁয়ে আমি থেকে যাব আরও কিছুদিন।

পৃথক খনিজ

কার কাছে নতজানু হই, রেখে যাই আমুল প্রার্থনা। হেলেঞ্চা লতার বনে শিশিরের মুক্তি ও মৃত্যুর ঘ্রাণ। তীব্র উষ্ণতায় গলে শতাব্দীর আম্রপালি তৃষা। এই নাও ইহজন্মের প্রথম পরম, যারে বেঁধেছিলাম শূন্যতার গোপন সূতায়। প্রতিদিন উড়ে যায় গন্ধর্ব পরাগ- ঘুম বদলের প্রাচীন কাহানী। হাজার বছর শুয়ে থাকে মৃত্তিকা ও কালো অন্ধকার- একই আগুনে পোড়া পৃথক খনিজ। আমি দীর্ঘ নিঃশ্বাসের অরে নৈঃশব্দ্য লিখে রাখি, লিখে রাখি বিপন্ন রাতের নিশা। গোলপাতা বনে মায়া হরিণের একটানা চিরল উৎসব। অববাহিকায় নেমে আসেন ঊর্বশী। পায়ে রাঢ় বাংলার নদীর মুদ্রা। স্রোতগন্ধে ভেসে যায় জন্মান্তরের মাতাল ছায়া। ও গাঙবালা- কোন পাহাড়ের বউ তুমি, না কী প্রেমভর্তি বিপুল পলল।

নৈঃশব্দ্যের বাড়ি

এরপর তৃষ্ণা এলে আমি পান করে নেবো ক্যানভর্তি ঘুম। গোয়েন্দার কাছে ফাঁস করে দেবো আপেলতত্ত্ব আর পতনের লাল ডায়েরী। নারীকে প্রীতিভোজে ডেকে পুরষ নয় দেখাবো জল ও দীর্ঘশ্বাসের পাথর। এইভাবে সব উড়াল অংক সিঁড়ি ভাঙতে ভাঙতে নেমে যাবে। আর একটা শাদা বাড়িতে কী সুন্দর বাস করতে থাকবো আমি একা, অন্ধকার। তুমি কাঞ্চি পাথরে শরীর আঁকতে আঁকতে হয়ে যাবে যুগল দহন-চপল প্রতিা। সময়ের সোমরাতে এসো, মুগ্ধ নিষেক ছুঁয়ে ডাক দিয়ো-আমি দিয়ে দেবো আমার নৈঃশব্দ্য।  

দীর্ঘশ্বাস ও কালোপাথরের ফুল

ছেড়ে দিলেই ঘুমিয়ে পড়তে পারে নদী। নদীর জলে কালোপাথরের ফুল। কুয়াশায় হাত ছোঁয়ালে বুকের ভেতর মোচড় দিয়ে ওঠে এক কোটি ঢেউয়ের বাজনা। এমন কোন রাত্রী ছিলোনা যাকে বলোনি জননী। এখন দিনের বিপরীতে তুমিই সফল সময় দশম আকাশ ডাকে, যেন ত্রিরতœ রমনী। তুমি চন্দ্রগুপ্তের ঘোড়ায় চড়ে ফিরে যেও প্রাগইতিহাস থেকেও দূরে। আমরা থেকে যাবো আরও কিছুদিন আর দীর্ঘশ্বাসের মতো পোড়াতে থাকবো শাদা শাদা নৈমিত্তিক  মোমবাতি।  

দ্বাদশ তৃষ্ণা

ডুবসাঁতার থেকে জেগে উঠে দেখো চতুর হাওয়া বইছে বুকে। কাঁচভাঙ্গা শব্দের টুকরো টুকরো জীবন, চায়ের টেবিলে দ্বাদশ তৃষ্ণা। পূর্নদীর্ঘ পথের ওপাশে শুইয়ে আছে কমলাক্ষী ঘুম। কচ্ছ বণিকের মতো জল, টান ভর্তি জোয়ার। চৌষট্টি নন্দন ছুঁয়ে থাকি, হাতের মুদ্রায়  কৌণিক জ্যামিতি। একজোড়া উড়াল ডানায় কতোটা সুদূর থাকে, ছেড়ে দিলেই হারিয়ে যায় প্রজাপতি ও তুষার। নীল অন্ধকার গায়ে কে তুমি পাথর, দীর্ঘশ্বাসের নামতা পড় রোদের চাতালে। সূর্যের পুঁজি থেকে প্রথম চন্দ্রগ্রাস তোমাকে দেবো, তুমি দশ আঙ্গুলে বাজিয়ে যেও শুন্যের সানাই। পকেটে সূর্যাস্ত নিয়ে দৌড়ে এসো, রেলগাড়ীর মতো তোমার শরীর, কেমন কু-ঝিকঝিক গন্ধ।  

প্রথম জল

কথা ছিলো মৃত ছায়ার কাছে শুয়ে রবো; এই গাঙপাখি সন্ধ্যায়- তুমি আমি খুব নীরবতা। কতোটা আধার পেলে একরাত একা হয়ে যায়। নিজস্ব শাড়ির আড়ালে বিপন্ন বেহাগ, কেঁপে ওঠে চাঁদের গহন। দূর কোন অতিতের কোন পাখি পাতাখসা উষ্ণ নিয়ে উড়ে যাবে আরো দূর ইপ্সিত অন্ধকারে। নরম নৈঃশব্দ্যের মতো আমিও হেটে যাবো প্রগাঢ় তৃষ্ণার দিকে। কে আমার প্রথম জল, প্রথম অগ্নিমালা। কার কাছে আবার হারাবো, ভেসে যাবো সহজ তরলে।

ঘড়ি

ভেতরে তুমুল দৃশ্য চলো কানামাছি খেলি। এমন হননগন্ধি কাল, ঘুমের ছায়ার মত দীর্ঘ দীর্ঘ রাত। অরণ্যের কোলে ধ্যানমগ্ন মেঘ, শিশিরের জলজল খেলা। মুল গায়েন ডাক দিলে ফুল্ল হই, দোতরার তালে নেচে জাগাই গহীন- যার যার বুকের বাহার। এভাবে পালাতে থাকে নদী-নীল-পাখি, কাঠবিড়ালিÑ এইসব গোলগোল দিন। মৃত্যু যায় আমিও যাই; কান্ত চোখে দোল খায় সিঁড়িচাঁদ, সবুজ পাথর। রোদ বালিকারা এবার ঘুমাও, ঘড়িতে অন্ধকার বাজুক।  

ঠাম

জলচূড়ি বেজে ওঠে- নত্র নাচের শেষে তোমাদের হাতে হাতে চিড়িক রেখা। ভেলকী ঘুমের ঢল অভিমানী বিষুক দোলন। আরো দুরে চাঁদের পরাগ- জোনাকী পোকার সাথে জীবনের প্রশান্ত চুমুক। কুহুরাতের শেষে পড়ে থাকে ঘুমুঙ্গি ঘর। অরণ্য অরে আঁকা ভূজপত্র, চাতক জমিন। যেন কোন ছায়াপথ, প্রতিবিম্বের পাশে শুয়ে থাকা অযুত আগামী। কতোটা উড়াল পেলে কোন কোন পাখি উড়ে যাবে শিশিরের নৈঃশব্দ্য উৎসবে। একদিন সেও ফিওে যাবে কাশপাতা নারী; দীঘল বসন্ত যার আদিমাতৃক ঘুঙুরের ধ্বনি। বুকের দরজায় ছল বাজে- সহস্রদলে চতুরাঙ্গ ঠাম। তোমাদের স্বপ্নতীর্থ বেলা আর দেহমাটি জুড়ে এইসব ভাবগঙ্গা ঢেউ।

সুবর্ণগ্রাম

একদিন ভরে দেবো তোমার জোয়ার। ভেজস গন্ধের লাজ; প্রথম প্রহর শেষে ফিরে গেছে অরণ্যের জাদু উৎসব। নিজের তরল তলে সারি সারি জন্মের ছায়া; ঢেউয়ের চকচকে আমূর্ত্য পিপাসার ঘ্রাণ। সবুজের পাতায় পাতায় কোনো কোনো সবুজ আমার নিদ্রা নিয়ে খেলা করে। রাতের গভীরে প্রাগ্নিসর্গিক জল। স্মারক শ্রাবণ জুড়ে বিগত দিনের হাওয়া, মানভর্তি পাহাড়ের ধুলি। আমি সমতট দ্বীপমালা ধরে হেঁটে যাবো দীর্ঘগঙ্গার দিকে, পথে পথে অজস্র নদী। কোথায় সুবর্নগ্রাম- কতদূর জন্মান্তরের স্রোত। প্রার্থনার লালভোরে আমিও ছুঁয়ে রবো এই মৃত্তিকা। আমারও গহন আছে, আছে নীল নীল সমুদ্র পাখি।

বৃক্ষ

নিসর্গ জানে বৃরা সব মাটিতে সবুজ। কোনো কোনো বৃ তাই প্রার্থনা করে অরণ্যের গান। সমুদ্র থেকে চুষে নেয় নিমক মুগ্ধতা। কৈবর্ত পুুরষের খোঁজে পুরাণ থেকে হেঁটে আসা সাহসী রমণী অন্ধকার হাতে দাঁড়িয়ে থাকে; দূরে সরল সন্ন্যাস বিমগ্ন কলায় একাকার। গড়ানো ধূসর থেকে খসে পড়ে নিষেকের ঘুম। এইখানে পাখিরাও এসে খুটে তোলে শস্যের দানা, তারপর উড়ে যায় হয়তো বলেশ্বরের পথে ডবাক দেশে। জেগে থাকা মাছরাঙা চোখ- পাতার মর্মরে দেখে পিপাসার আগাম হাওয়া। তোমার প্রাণের রঙ ফুরাতে ফুরাতে মিশে যাবে বৃরে কুসুমে। এইসব বৃরা আজন্ম নারী। আকাশ মাথায় করে দাঁড়িয়ে থাকে নিঃসঙ্গ একা; আরো নির্জনে পাখি। শিশিরের জলমুগ্ধতায় এসো আমরাও সারি সারি নির্জন হয়ে যাবো।       

উছল

রাত নামে, ছুঁয়ে যায় কামরাঙা নদীর আঁচল। কিছুদিন বৃতলে ছায়া হয়ে কাটিয়েছি মহুয়ার কুসুম নেশায়। পরাঙ্গী ধানের গন্ধে কতবার হারিয়েছি কৈশোরের নবান্ন সকাল। হেমন্ত উড়াল দিতো ধনেশের ডানায় ডানায়। আমারও পিদিম ছিলো, জ্বালিয়ে রাখতে গিয়ে নিভে যেতো প্রতি পূর্ণিমায়। পাখিদের বিমগ্ন শরীরে মিহিদানা চাঁদের পরাগ। কতটা বাঁধবে তারে, টপ্পার আসর থেকে যে সময় পালিয়েছে একা। যে সময় ফাঁকি দিয়ে নিয়ে গেছে কুমারী প্রাচীনÑ ছাতিমের প্রহর মৌনতা। তুমি যাই বলো অহল্যা জীবন ছেড়ে কোথাও যাবনা, আমিও  পাথরে পাথর হয়ে শুয়ে রবো দ্রাবিড় ধূলিতে। তুমি প্রাণ খুলে ডেকে যেও, ডেকে যেও বুকের সারস। জলাঙ্গী কী দেবে জল, রাতপোড়া রোদের উছল।

অন্য দীর্ঘশ্বাস

এগার আখর ডাকে, খরাবৃক্ষ নৃজন্ম শোনায়। নিশিথ প্রহর জুড়ে দৃশ্যলাজ- অধরা স্বজন। কার বুক ছুঁয়ে আসে পোড়াকষ্ট অভিমানী হিম। নদীরাত বড় হয় ডেকে আনে চতুর জীবন। পাখির পালক ভাসে, খসে পড়ে ঘাসের সকাল। হরিণেরা ছেড়ে যায় নীল উপবন, তার চোখে কোমল গান্ধার। স্বপ্নচাকা গড়াতে গড়াতে নদী হয়। নদীর পাগলা জলে চাঁদের ঝিলিকবাজি-দীর্ঘতর রাতের বুনন। অপার মুলুক ছুঁয়ে আমলকি সবুজের দেশ, কেঁপে ওঠে বউঘুম, ঘুমের মৃত্তিকা। সোনার কাঠি বদলে যায়- রূপার কাঠি বদলে যায়…। মাঠময় অমরতা ঝিরঝির নওল বিকাশ। একজন পান্থ হাসে বুকে তার অন্য দীর্ঘশ্বাস।

চলো

বাকি পথ হেঁটে যাই চলো। যেতে যেতে যদি পাই পথের উদাস। মানকুমারীর চোখে বিচুর্ণ রতি, নিষাদ দৃষ্টিতে যোজন আকাশ। সুনীল পাতার নীচে দূর খোঁজে পাখিদের ঝাঁক, বাতাশে বাতাশে মেঘ বদলের চিঠি। প্রান্তরে আলোর ছায়া, আলো কি রাতের অসুখ! সব দিকে যতোটা সবুজ ভাবি তার তেকে শাদা বেশী। যুথবদ্ধ জীবন কেবল অন্তলীন। অরণ্যের ওপাশে ঈষৎ জলমগ্ন শিশির ও চাঁদ। চলো লভেদী রাত্রি হাঁটি, পাথরজঙ্ঘা পাড় হয়ে যাই। পেছনে বিস্ময় ছিল; আমি তার অংশ অংশ কুড়িয়ে এনেছি, এই নাও শাদা গন্ধ ঘুমের পালিশ। সামনে কী আছে দেখতে দেখতে যাই, চলো  দেখতে দেখতে যাই….।

একাকার

খুব দেরী হয়ে যায়। মৃত জ্যোৎস্নার পরে, অন্ধকারে সীমার প্রচ্ছদ। আমাদেরও রাত্রি ছিলো, আমরাও অন্ধকার কুড়াতে কুড়াতে এসেছি। হরপ্পা নারীর হাতে তুলে দিছি পাহাড়ের সোমলতা জল- পৃথিবীর প্রথম উষ্ণতা। বুকের দ্রাবিড়ে জমে আছে অসমাপ্ত রাখাল বেলা। তাম্রলিপ্ত প্রেম, তোমার আলোর অগ্রে কতবার ছায়া হয়ে গেছে। দৃশ্যে দৃশ্যে ভেসে গেছে শাদা পৃষ্ঠার মতো পাপ। প্রগাঢ় স্তব্ধ ছিলো, গড়ানো মার্বেল থেকে খসে গেলো নিম অন্ধকাল। জীবন-আনন্দে নাচে কালপত্র, ধ্রুবময়ী নারী। পায়ে তার গোটা গোটা ঘুঙুর পিপাসা- শূন্যতার শব্দধ্বনি টান। অথচ কার গভীরে এতো অনু, দিগভ্রান্ত এতো একাকার।

টান

টান আছে- পাখির পাখনায় তাই শাদা শাদা হাওয়া। কোন কোন আলোকবর্ষ কুয়াশা কুচি। শিশিরের হীম হয়ে ঝরে পড়ে বসন্তের বনে। দেওয়ালে ঝুলে থাকা ঘড়ি সেও কী জানে কোথায় সময়; আগামী ভেসে বেড়ায় জলের কাজলে। রোদ্দুর ফুরাতে না ফুরাতে চিকচিক করে ওঠে দীর্ঘশ্বাস। শষ্যের ধ্যানে বাড়ন্ত শ্রাবণ; মেঘের উজানে কান্তি নামে। দূরে কোথায় যেন ভাঙ্গতে থাকে বরফ সভ্যতা। আর আমি- পাথরের সাথে জন্ম ,প্রতিদিন তাই ঝর্ণা হয়ে থাকি। সমস্ত শরীর জুড়ে বেজে ওঠে ঝিঁ ঝিঁ পোকার মতো রাত। অন্ধকারে, অনু ও মানে আমিই স্রোত আমিও রাজহংস। জেগে থাকা তোমাদের সমুদ্রে ছিটিয়ে যাবো তৃষ্ণাতৃষ্ণা লাল।

দৌঁড়

অন্ধকার পুড়ে গেছে; দুইহাতে ছাইমাখা রাত। পুরানো ইচ্ছারা ছায়া হয়ে দৌড়ায়। আমার ঠিকানা পথ- পথে পথে ডাকবাক্স; কোনদিন ভোর খুলে দেখে নেবো রঙ। সরল নিসর্গ বনে আমিও শরীর হবো- পাতায় পাতায় বাতাশের ঘুম। কোন কোন পাহার চুষে নেয় বৃক্ষের ধ্যান। তমশার জলে অজ¯্র রমণী, শব্দের ভাঁজ খুলে যারা হয়ে যাবে পাখি।। তোমার অপেক্ষায় আমিও ছুটতে ছুটতে এসে দাঁড়িয়েছি অসীমের তলে। চারিদিকে দলছুট    গহন। আমি পানপাত্রে ভিজিয়ে রেখেছি পাপ; চুমুকেই তৃষ্ণা। তুমি এলে আবার দৌঁড়াবো, আমাদের পায়ের পাতা ছুটন্ত কিছু লাল ঘোড়া।

নিঝুম

নিঝুম ছিলো-দৃশ্যফোটার সাথে ঝরে গেছে আমাদের জলের প্রহর। তুমি যেন পৃথিবীর প্রথম কিশোরী, বুকের ভূমিতে হাত রেখে বেছে নিলে জননী জীবন। চিলপাখির ডানায় জন্মান্তরের ছায়া। সূর্যের চিহ্ন আঁকা রাত, কমলালেবুর বনে আজ তুমি চন্দ্রতোয়া নারী। শরীরে এলাচগন্ধ নিয়ে দুলে ওঠো লালভাঙ্গা ঝাঁঝ। তোমার গমন পথে একা হয়ে থাকি, পায়ের মুদ্রায় নিষাদ ব্যস্ততা। বাতাশের বিপরীতে পুষে রাখি দীর্ঘশ্বাসের হাওয়া। কে যেন আসবে বলে ঝিঁঝিঁর শব্দের সাথে মিশে থাকে জ্যোৎস্নার কুচি। চোখের তৃষ্ণা খুলে একদিন ফিরে যাবে অন্ধকার- ধানিরঙ বসন্তের অনেক ওধারে।

থির  

কেমন চুমুক দেবো, বুক জুড়ে জলতৃষ্ণা ঢেউ। গাঙের ওপারে তুমি, এপারে তোমার ছল- দৃকব্যাপী লাজুক শ্রাবণ। দিনভর নোলক দোলাও অন্ধকারে চন্দ্রাহত লাজ। দূরত্ব কমতে চায়, প্রান্ত খোঁজে দূরের অসীম। হাতের মুঠোয় রাত, রাতভরা মুঠো মুঠো হীম। চাতক পাখির চোখে উজান আকাশ। ছায়া ছায়া নাচ চায় বৃষ্টিবতী নারী, কেবল বিলাতে চাও শ্রাবণ অরণ্য। একটি শব্দের জন্ম হবে তাই থির হয়ে আছে পুরোটা জগৎ।

Comments
4 Responses to “পরিতোষ হালদারের কবিতা”
  1. chomotkar laglo Paritosh apnar kobita , amar Facebook wall a deben sanjay_b_banerjee@yahoo.com ata amar mail Id, bondhutor asai roilam

  2. chomotkar laglo Paritosh apnar kobita , amar Facebook wall a deben

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

  • কপিলেফ্ট ওয়েব জার্নাল : একটি বিকল্প লিটলম্যাগ Copyleft webjournal : an alternative littlemag

    কপিলেফ্ট। এখানকার যে কোনও লেখা যে কেউ অবাণিজ্যিক ও অলাভজনক উদ্দেশ্যে মূল লেখা ও লেখককে

    অবিকৃত রেখে প্রকাশ ও প্রচার করতে পারবেন।

    Copyleft: Matters in this site is copyleft. Everybody can reprint or republish this without modifying author and writing and without the permission of author and publisher for only noncommercial purposes

%d bloggers like this: