হাসান সাব্বির এর কবিতা

মাতাল রাত্রির কবিতা

নীল এক পৃথিবীর দোয়েলের রাত- ঘুমের মধ্যে জেগে আছে সরীসৃপ
চোখের তীব্র দৃষ্টি। ক্রমশঃ বুকের উপর ধ্বংস হতে শুরু করেছে
আন্দিজ ও হিমালয়! অতঃপর প্রবল এক সুনামীর ঢেউ এসে ভাসিয়ে
নিয়ে যায় নূহে’র পাবনে! কর্পুর হয়ে ভেঙে যাচ্ছে সময়!

অজানা সমুদ্রে ডুবে যাচ্ছি মাতাল রাত্রির জাহাজ! তবুও কিছু পতঙ্গ-
প্রাণ ধুলো হয়ে উড়ে বেড়ায়…

অতিপ্রাকৃত

আমরা যারা এক ফুঁ-তে উড়িযে দেই আষাঢ়ে গল্প অতি-প্রাকৃত
অধিভৌতিক প্রকৃতি-পাঠ তারাও একদিন নীল হয়ে রাত্রির মোড়ে মোড়ে
জমিয়ে আড্ডা চুমুক দেই মদের পেয়ালায়- একদিন তাঁরারাও শুনি দূর
সমুদ্র থেকে ভেসে আসা মনোমুগ্ধকর সাইরেন- প্রলুদ্ধ হই মৃত্যুর
উপকূলে…

একদিন এই শরীর উই এর ঢিবি- মগজে মগজে শুধু উই আর উই-
জাদুবাস্তবতার মাতাল উৎসব ! একদিন এই চোখেও নেশার লাল-
রক্তনদীর লবণ স্রোত…

অসহায়ত্ব

শুন্যতাবোধের আকাশ, উড়ে যাচ্ছি পাখির ডানায়…। কোথায় যেন স্বপ্ন
আমার ভাঙ্গা কলস! কোথায় যেন হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে হয়ে মরে
থাকল মন- কোথায় যেন নির্বাক কন্ঠ। জ্বলে জ্বলে নিভে যাচ্ছি- নিভে
 নিভে শেষ হয়ে যাচ্ছি অস্তিত্ব, রাত্রির গোপনে- গোপনেইতো ক্ষয় হয়
প্রকাশ্য!

কী ভীষণ যন্ত্রণার এই দেহপ্রকৃতি, পৃথিবীর কাঠিন্য !

নস্টালজিয়া

ধ্বংসপ্রাপ্ত এক কবিতার কংকাল- করোটি দেখি নেড়ে-চেরে;
উল্টে-পাল্টে! দেখি ধুলো হয়ে যাওয়া কত-শত স্বর্ণালি মুহুর্ত…

শোকের পাথর বুকে বাঁধতে বাঁধতে
পাঠ করি কবিতার স্তবক কবিতার স্মৃতির উদ্দেশ্যে-
অনুভব করি নীল শূণ্যতা, অন্তরে।

জাদুময়

একদিন শূন্যতার গভীর থেকে উচ্চারিত হয়েছিল অগণন
শব্দের ধ্বণি। ক্রমিক ভেঙ্গে পড়ছিলাম অদৃশ্য ঝড়ের তুমুল
ক্রিয়ায়; জাদুময় মনে হচ্ছিল সময় ও প্রকৃতি। তারপর কত
রাত হেঁটে চলে গেছে বহুদূর। চেতনার মহাকাশে কখন যে
হারিয়েছিলাম মানসিক ভারসাম্য আজও তা গোপন খবর
কালচিহ্নের শাদা ক্যানভাসে…

অক্ষরের গণিতে আজ যে পাঠ করছে নিখোঁজ সংবাদ-
হারানো দিনের সে গান দূর পরবাসে …

জটিল জ্যামিতি
জল- স্থল- আকাশ- তিনটি শূন্যের কবিতা! শূন্য- কী আশ্চর্য্য এক বৃত্ত! বৃত্তের বাইরে কেউ নেই- কেউ নয়
বলয়ের বাইরে। স্বাধীন নয় কোন বস্তুই- কোন পদার্থই বিশ্বস্ত নয়! ইচ্ছে করলেই প্রাণী হতে পারে না পাথর।
জীবন এক জটিল জ্যামিতি- যার মধ্যে ত্রিভূজ-চতুর্ভূজ-আয়তক্ষেত্র, রম্বস আরও কত কি গাণিতিক সমীকরণ! প্রেম
তো চুম্বকীয় আবেশ- বিপরীত আকর্ষন- জ্যামিতির সুক্ষ্মকোণ! গহীনে যে শূণ্যতা অথবা অতল জলধি সেখানেই
নিভৃতি, নিরবতা, আর্তনাদ- জলের কাব্য- মৎস্যপুরান! হাওয়ায় ওড়ে জলের ফিসফিস- ওড়ে আশ্চর্য্য মুহূর্ত!

হঠাৎ লোডশেডিং হলে অন্ধকারে ভরে যায় জলরঙে আঁকা বহুমাত্রিক প্রকৃতি- প্রকার।

Comments
One Response to “হাসান সাব্বির এর কবিতা”
  1. “জাদুময়” কবিতা ভালো লেগেছে বেশি।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

  • কপিলেফ্ট ওয়েব জার্নাল : একটি বিকল্প লিটলম্যাগ Copyleft webjournal : an alternative littlemag

    কপিলেফ্ট। এখানকার যে কোনও লেখা যে কেউ অবাণিজ্যিক ও অলাভজনক উদ্দেশ্যে মূল লেখা ও লেখককে

    অবিকৃত রেখে প্রকাশ ও প্রচার করতে পারবেন।

    Copyleft: Matters in this site is copyleft. Everybody can reprint or republish this without modifying author and writing and without the permission of author and publisher for only noncommercial purposes

%d bloggers like this: